অভিমানের মাশুলে ঝরে গেল কিশোরী প্রাণ, শোকে স্তব্ধ আলীকদম
স্টাফ রিপোর্টার: মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় ভেরোনিকা ত্রিপুরা (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক একটি ঘটনার পর সে ঘরে থাকা আগাছানাশক পান করে।
পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ছুটির দিনে পরিবারের গবাদিপশু চরাতে গিয়ে একটি গরুর গুঁতায় আহত হয় ভেরোনিকা। পরে ক্ষোভের বশে গরুটিকে মারধর করলে তার মা তাকে বকাঝকা করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে এবং একপর্যায়ে ঘরে রাখা আগাছানাশক পান করে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বিষক্রিয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সে মৃত্যুবরণ করে। রোববার হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ভেরোনিকার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অসতি ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নব আরা বেগম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, >মেয়েটি ছিল অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। কখনো কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াত না। শিক্ষকদের প্রশ্নেরও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিত। তার আচরণ ছিল বিনয়ী ও মার্জিত।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আলীকদমজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সচেতন মহলের মতে, শিশু-কিশোরদের আবেগ, মানসিক চাপ ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে আরও সহানুভূতিশীল আচরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ঘরে কীটনাশক, আগাছানাশক ও অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক নিরাপদভাবে সংরক্ষণের প্রতিও অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিয়োগান্ত এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—একটি কোমল মন কখন কীভাবে ভেঙে পড়ে, তা সব সময় বোঝা যায় না। তাই সন্তানদের প্রতি যত্ন, ধৈর্য, আন্তরিক সংলাপ এবং নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।