অর্থসংকটে আলীকদম কলেজ: ফান্ডে মাত্র ৭৭ হাজার টাকা, প্রতি মাসে ঘাটতি ৫০ হাজার
মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন, আলীকদম(বান্দরবান):
আলীকদমবাসীর বহু বছরের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল আলীকদম কলেজ বর্তমানে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ নিয়মিত ব্যয় নির্বাহ করে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে কলেজের আর্থিক ফান্ড শক্তিশালী করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলেজের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকালে কলেজ নির্মাণ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মঞ্জুর আলম জানান, বর্তমানে কলেজ ফান্ডে জমা রয়েছে মাত্র ৭৭ হাজার টাকা।
শিক্ষার্থীদের মাসিক ফি ও অন্যান্য উৎস থেকে কলেজের মাসিক আয় হয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে প্রতি মাসে প্রয়োজন হয় প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ইউএনও মঞ্জুর আলম বলেন, এ ঘাটতি পূরণ করে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সবার সম্মিলিত, আন্তরিক ও একনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। কলেজটি সরকারি বা এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করার অন্যতম অবলম্বন।
আলীকদম কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ইতোমধ্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সহযোগিতা করে আসছে। কলেজের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রকল্পে অর্থায়নসহ একাধিক উদ্যোগ জেলা পরিষদের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জেলা পরিষদের এসব সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও আলীকদম কলেজের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা পরিষদের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও প্রবাসে থাকা আলীকদমের অনেক ব্যক্তি কলেজের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরও বেশি মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যারা ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা দিয়েছেন, তাঁদের আরও ১ লাখ টাকা দিয়ে মোট ৩ লাখ টাকা পূর্ণ করে আজীবন সদস্যপদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে যারা কলেজকে সহযোগিতা করে আসছেন, তাঁদেরও অবদান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে যারা চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তাঁদের প্রতিও কলেজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের কাছে ভোট ও সমর্থন প্রত্যাশার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোও জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটির সংকটে সহযোগিতার হাত বাড়ানো হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক সামাজিক বার্তা তৈরি করবে।
আলীকদমের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক, জাতীয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—লেখনী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজ নিজ পরিসরের মাধ্যমে কলেজের বর্তমান আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরতে।
তাঁদের লেখনী ও প্রচারের মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, প্রবাসী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের কলেজের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আলীকদম কলেজ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি একটি জনপদের বহু বছরের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উচ্চশিক্ষার আশ্রয়। তাই ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, প্রবাসী, বিত্তবান, শিক্ষানুরাগী, জনপ্রতিনিধি, সাবেক শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতায় কলেজের আর্থিক ফান্ড শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একটি কলেজের সংকট মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি জনপদের ভবিষ্যৎ। তাই আলীকদম কলেজের পাশে দাঁড়ানো মানে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার পথকে আরও সুদৃঢ় করা।