*আলীকদমে বন্যাদুর্গত ২০০ পরিবারের পাশে ব্র্যাক ও ব্র্যাক ব্যাংক*
সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে পুনর্বাসন সহায়তা জোরদার; ৭ দিনের খাদ্য প্যাকেজ ও নগদ অর্থ বিতরণ
মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার : আলীকদম (বান্দরবান)
প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাতে বিপর্যস্ত জনজীবন পুনরুদ্ধারে মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের অন্যতম উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং ব্র্যাক ব্যাংক। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আলীকদম উপজেলার ২০০টি পরিবারের মাঝে ৭ দিনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ এবং নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম রিমন, সম্মানিত সদস্য, পার্বত্য জেলা পরিষদ, বান্দরবান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স, কক্সবাজার অঞ্চল।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক আলীকদম শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আলীকদমে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্যোগের শুরু থেকেই সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম
বক্তারা জানান, আকস্মিক বন্যার শুরু থেকেই ব্র্যাক উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে ব্র্যাক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কেবল জরুরি ত্রাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে ব্র্যাক ও ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ অনুদানে এ পুনর্বাসনমুখী সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রতি পরিবারে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার সহায়তা
এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৭ দিনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্যাকেজ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ১ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিটি পরিবার মোট প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকার মানবিক সহায়তা লাভ করে।
প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল—
১৪ কেজি চাল,২ লিটার ভোজ্য তেল,২ কেজি মসুর ডাল,২ কেজি চিড়া,১ কেজি লবণ,১ কেজি চিনি,২ কেজি,মটর ডাল/ভাজা ডাল,১ কেজি সুজি,১ কেজি বিস্কুট,১ কেজি পেঁয়াজ,১০ পিস ওআরএস (খাবার স্যালাইন),৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি।
পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব
প্রধান অতিথি সাইফুল ইসলাম রিমন বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কেবল সরকারি প্রচেষ্টার মাধ্যমে নয়, বরং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই অধিক কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব। ব্র্যাক ও ব্র্যাক ব্যাংকের এ উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মানবিক সহায়তা ব্র্যাকের প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দুর্যোগের শুরু থেকে জরুরি ত্রাণ, খাদ্য সহায়তা, পুনর্বাসন এবং জীবিকা পুনর্গঠনে ব্র্যাক ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার
সহায়তা গ্রহণকারী পরিবারগুলো জানান, আকস্মিক বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, জীবিকা এবং নিত্যদিনের আয়ের উৎস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থের এই সহায়তা তাদের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি পুনর্বাসনের পথে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।
দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত এই উদ্যোগ আলীকদমে মানবিক সহায়তার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বাস্তবমুখী সহায়তা কেবল সাময়িক দুর্ভোগ লাঘবই নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।