আনিসুজ্জামান, (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সালতানাতে খোরাসান’ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় মসুয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে চর আলগী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিকেলের দিকে খেলা শুরুর আগেই চর আলগী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুরো মাঠের আশপাশের এলাকা দর্শক-সমর্থকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত হন।
নির্ধারিত সময়ে ফাইনাল ম্যাচ শুরু হলে দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দ্রুতগতির পাস ও দারুণ নৈপুণ্যে ম্যাচটি হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মাঠে খেলোয়াড়দের চমৎকার পারফরম্যান্সে দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দর্শকরা করতালি ও নানা স্লোগানে পুরো মাঠের পরিবেশ প্রাণবন্ত করে তোলেন।
ফাইনাল ম্যাচে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, উপজেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি জনাব জামাল উদ্দিন মাস্টার, মসুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাবেক ছাত্রনেতা হাসান আল মামুন, ছাত্রশিবিরের কিশোরগঞ্জ জেলা সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সারোয়ার আলম, সেক্রেটারি জোনায়েদ, মসুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জনাব আবুবকর সিদ্দিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অতিথিরা খেলার বিভিন্ন মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারা তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক, কিশোর অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ‘সালতানাতে খোরাসান’ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকরা আরও বলেন, একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে চর আলগী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছিল উৎসবের আমেজ। মাঠের চারপাশে দর্শকদের উপস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্সে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় মিলনমেলায়। দীর্ঘ সময় ধরে ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
স্থানীয় দর্শকদের কয়েকজন জানান, এলাকায় নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন হলে তরুণরা মোবাইল ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রেখে মাঠমুখী হবে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে সুস্থ বিনোদনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে মসুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায়ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ।
তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে এবং এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।