কবিতা ও গানে মীরসরাইয়ে প্রাণবন্ত বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত
| হারাধন চক্রবর্তী,স্টাফ রির্পোটার,মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়...” এবং পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের “আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িছে ঘোলাটে মেঘের আড়ে...”—এই কালজয়ী বর্ষার কবিতার আবহে কবিতা, গান, আড্ডা ও সাহিত্যচর্চায় মুখর হয়ে উঠেছিল মীরসরাই। বর্ষার সৌন্দর্য ও বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘বর্ষা উৎসব’।
শনিবার (১৮ জুলাই) মীরসরাই উপজেলার রোকেয়া সাত্তার স্মৃতি পাঠাগার মিলনায়তনে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, মীরসরাই উপজেলা শাখা ও খবরিকা-এর যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সঙ্গীতশিল্পী ও কবি প্রফেসর আক্তারুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা, কবি ও সাংবাদিক মাহবুব পলাশ এবং প্রভাষক ও কবি মোয়াজ্জেম হোসেন ফরহাদ।
প্রধান অতিথি ছিলেন মীরসরাই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নুরুল আফছার। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নজরুল গবেষক ড. কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম, জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুভাষ সরকার এবং মীরসরাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক বিপুল দাস।
উৎসবে নাট্যকার মঈন উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সেলিম আঞ্চলিক ভাষায় বর্ষার স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়া কবিতা পাঠ করেন মাহমুদ নজরুল, শাহাদাত হোসেন লিটন, হোছাইন সবুজ, চন্দনা চক্রবর্তী, শেখ ফরিদ, হারাধন চক্রবর্তী, রিপন গোপ পিন্টু, তাছলিমা চৌধুরী সুরভী, সানোয়ার ইসলাম রনি, ফারামনি ও সুহান।
সাংস্কৃতিক পর্বে অবন্তিকা দেবী, কামরান মেহেদী, অনু রানী দেবী, শেখ ফরিদ ও মোয়াজ্জেম ফরহাদ বর্ষার বিভিন্ন গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রশিদুল হাসান, তাকিবুর রহমান ও তাবিকুর রহমানসহ সাহিত্যপ্রেমী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান আলোচক ড. কামাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বইপড়া, শিল্প-সাহিত্য চর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড একটি মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
উৎসবের আকর্ষণীয় আয়োজনের মধ্যে ছিল বর্ষার কবিতা ও গান, লেবু-ঝালমুড়ি, রং চা, খিচুড়ি ভোজ, পিঠাপুলি এবং আন্তরিক মিলনমেলা। সারাদিনব্যাপী উৎসবটি অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উৎসাহে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।