নার্গিস আক্তার জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকোট ইউনিয়নের বিদ্যাকোটে তিনশো বছরের কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে সতীদাহ মন্দির।বিদ্যাকুট গ্রামের প্রসিদ্ধ হিন্দু জমিদার দেওয়ান বাড়ির বাসিন্দা দেওয়ান রাম মানিক সতীদাহ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।১৮৩৫ সালে রাম মানিকের মাকে এই মন্দিরটিতে সর্বশেষ সতীদাহ বরণকারী হিসাবে উল্লেখ করে শ্বেত পাথরের একটি নামফলক বসানো হয়েছিল। ১৯৭১ সালে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি বিনষ্ট হয়। বর্তমানে বিদ্যাকুট গ্রামে রাম মানিকের বংশধরদের কেউ না থাকায় সেই সতী নারীর নাম জানা যায়নি।১৮২৯ সালে তৎকালীন বাংলার গভর্ণর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইন করে সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে দিলেও এই গ্রামের মন্দিরে গোপনে দাহ করা হয়। এমনটি হয়েছে আরও অনেক বছর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকজ সংস্কৃতির গবেষক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন ১৯৮০ সালের দিকে বিদ্যাকুট গ্রামের গৃহবধূ বনলতা দেবীর কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকারের একটি চিঠি সংগ্রহ করেন। তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজার কাছে পাঠানো সতীদাহ প্রথা বন্ধের নির্দেশ ছিল।এদেশে হিন্দু সমাজে যখন সতীদাহ প্রথার প্রচলন ছিল, তখন স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে তার সঙ্গে জীবন্ত দাহ করা হতো।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে সদ্য বিধবারা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ অথবা ‘সহমরণ’ করতো। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জোরপূর্বক দাহ করা হতো। জীবন্ত সতী নারীর বেঁচে থাকার আর্তনাদ যেন না শোনা যায় সেজন্য খুব জোরে ঢাক এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানো হতো।প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নারীদের প্রতি নিষ্ঠুর বর্বরতা, অন্যায়-অবিচারের প্রথা সতীদাহ প্রথা সেই কালো অধ্যায় সম্পর্কে জানাতে প্রাচীন এই মন্দিরটি আদিরূপ অক্ষুন্ন রেখে এর রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন।রাজা রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহবিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন। ১৮২৮ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার গভর্নর হয়ে আসলে রামমোহন রায় তার কাছে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। পরে ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সতীদাহ প্রথাকে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাস করেন লর্ড বেন্টিঙ্ক।ইতিহাস থেকে তাও জানা যায় ভারতবর্ষে সর্বশেষ সতীদাহ নাকি এ মন্দিরে করা হয়েছিল।অর্ধযুগ আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক অনুদান প্রদান করলে চেয়ারম্যান ভিপি এনামুল হক মন্দিরটি সংস্কার করলে মন্দিরের মূল অবকাঠামো আংশিক পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিলো।