গোবিন্দগঞ্জে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে শিক্ষক প্রতিনিধি সহ কমিটি গঠন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ শ্রী গৌতম কুমার দাস
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গর্ভনিং বডি কমিটি গঠনে গোপনীয়তা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নারী শিক্ষার উন্নয়নে গোবিন্দগঞ্জ সমিতির একটি শিক্ষা মুলক প্রকল্প হিসাবে ১৯৯১ সালে মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠিত করেন তখনকার গোবিন্দগঞ্জ সমিতির মহাসচিব সাবেক এমপি মরহুম আবদুল মোত্তালিব আকন্দ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালোই চলছিল।
কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে ৩৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেন আহসান হাবীব প্রিন্স ।
নিয়োগের পর থেকেই ঘুষ দেয়া টাকা তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিগত সময়ে প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মোত্তালিব আকন্দের ছবি ভাংচুর সহ বিভিন্ন অনিয়ম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ হলে তা প্রমানিত হলেও অদৃশ্য কারনে বিচার হয়নি।
২৪ এর জুলাই পরবর্তী সময়ে নিজের দুর্নীতি ঢাকতে ও গা বাচাতে সুচতুর প্রিন্সিপাল বিএনপি সাজার নাটক করে নেতৃবৃন্দ কে ম্যানেজ করে আবার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট জমা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আবার চাটুকার প্রিন্সিপাল বর্তমান এমপির উপর ভর করে নতুনভাবে দুর্নীতির রামরাজত্ব করতে চাচ্ছে।
ইতিমধ্যে গোপনে ও বিধি বহিঃভুতভাবে নতুন কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিধি মোতাবেক শিক্ষক প্রতিনিধি শিক্ষক দের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এ বিষয়ে গত ২৯/৩/২৬ তারিখে কলেজের প্রায় সকল শিক্ষক সর্বসম্মতিক্রমে একটি রেজুলেশনে সহি স্বাক্ষর করে তিনজনের নামের তালিকা প্রিন্সিপালের নিকট দাখিল করে ও প্রিন্সিপাল তা ২/৪/২৬ তারিখে রিসিভ করে নেয়। কিন্তু প্রিন্সিপাল তার দুর্নীতি ঢাকতে সকল শিক্ষক দের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপনে নিজ পছন্দমত শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনীত করেন।
জানা গেছে রাসেদ হায়দার নামে যে শিক্ষক কে প্রতিনিধি করা হয়েছে তার চাকরি বয়স আর এক বছর রয়েছে, সে কেমনে দুই বছরের জন্য গঠিত কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি কি করে হয়?
এনিয়ে শিক্ষক বৃন্দ বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা গ্রাহ্য করে জোরপূর্বক ইচ্ছে মত কমিটির সদস্য দের মনোনীত করেছে।
শুধু তাই নয় উক্ত প্রিন্সিপাল প্রিন্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা তছরুপের সত্যতার অডিট আপত্তি রয়েছে বলেও জানা গেছে।
শিক্ষক দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিক্ষক বৃন্দ মাননীয় এমপি সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ও সুষ্ঠু তদন্ত পুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষকে ফোন দিলেও ফোনে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায় নি।