জমি ভরাটে বন্ধ গানডার বিলের পানি চলাচল, ৩ ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা
এম মাহফুজার রহমান
উপজেলা প্রতিনিধি
সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
১৮/০৮/২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা, সোনারায় ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের মিলনস্থলে থাকা ঐতিহ্যবাহী গানডার বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিজেদের জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করায় বিলের পানি চলাচলের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, পানি চলাচলের মুখ বন্ধ করে অনেকে নিজেদের জমি নিজেদের মতো করে উঁচু করছে , এতে করে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার একর ফসলি জমি এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত।
বিলের সংযোগ খাল ও নালাগুলোর মুখে উঁচু মাটির বাঁধ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিলের পানি উপচে আশপাশের হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। আর এই জলাবদ্ধতায় কৃষকরা করতে পারছে না চাষাবাদ। ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা।
সরেজমিনে দেখা যায় সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম প্রি ক্যাডেট স্কুলের গানডার বিলের উপর ব্রীজ থেকে উত্তর পশ্চিমে বিলে পানি চলাচলের রাস্তায় নুরুন্নবী মিয়া নামক এক ব্যক্তি তার জমির চারপাশে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি পাড় তৈরি করছে।এতে করে পানি চলাচল বন্ধ।তবে তার দাবি এটা পানি চলাচলের প্রধান মুখ না,অন্য পথ দিয়ে পানি প্রবাহ হতো কিন্তু সবাই নিজেদের মতো তাদের জমি উঁচু করার কারনে পানি চলাচল বন্ধ। আমার জমি দিয়ে পানি যাওয়ার কারনে ইতিমধ্যে আমার অনেক জমি খানাখন্দে পরিনত হয়েছে।তাই এই জমিটা রক্ষা করার জন্য পাড় তৈরি করছি। তবে পানি চলাচলের বিকল্প রাস্তাও করে দিয়েছি।
সরেজমিনে আরো দেখা যায় শুধু নুরুন্নবী মিয়া না আসাদুল মিয়া নামেও এক ব্যক্তি পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তাছাড়াও আরো অনেক ব্যক্তিই তাদের নিজেদের জমি নিজেদের মতো করে উঁচু করার কারণেই বহুবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ এর দাবি এই বিলের উৎপত্তি স্থল থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ খননের মাধ্যমেই ক্যাবল এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত তথ্য দেন।দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।