জামালপুর-শেরপুর ব্রহ্মপুত্র সেতুতে টোল নিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধে দুর্ভোগ
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি,মোঃ আজাদ হোসেন নিপুঃ-
জামালপুর-শেরপুর ব্রহ্মপুত্র সেতুতে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বারবার হাতাহাতি ও অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। গতকালও ( ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং) টোল দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে রনি নামের এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটে, তাহার বাড়ি জামালপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বন্দের বাড়ি এলাকায় ( ব্রিজ থেকে অতি নিকটবর্তী) । এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জামালপুর-শেরপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন দুই জেলার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
অবরোধের কারণে কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ, জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমনকি একটি বরযাত্রীবাহী গাড়িও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটিতে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে টোল আদায় নিয়ে চালক ও টোল আদায়কারীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে। প্রায় ২০ বছর ধরে টোল আদায় চললেও সেতুটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের দাবি, সেতুটি দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও টোল আদায় বন্ধ হচ্ছে না এবং ব্রিজও সংস্কার করেছেন না।
এলাকাবাসীর মতে, টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বারবার সংঘাত সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি ও সময়ের অপচয়ের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জামালপুর ও শেরপুর জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, জনদুর্ভোগ ও সংঘাতের অবসানে সেতুটির টোল আদায় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সেতুর বর্তমান অবস্থা, টোল আদায়ের যৌক্তিকতা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘাত বন্ধ, সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দুই জেলার মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।