তালায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল, দ্রুত অপসারণের দাবি
আরিফুল ইসলাম
জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তাঁর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান সাংবাদিকরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তালা উপজেলা প্রেসক্লাব ও তালা প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অসংগতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। তাঁদের নিয়ে দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনো কর্মকর্তার কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকলে তা যথাযথ ও পেশাদার পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের হেয়প্রতিপন্ন করে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডা. মিজানুর রহমানকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।
অতীতের অভিযোগ ও তদন্ত কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ
মানববন্ধনে বক্তারা ডা. মিজানুর রহমানের চাকরিজীবন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ৩৩তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা। চাকরিজীবনের প্রায় ১০ বছরের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
বক্তারা জানান, ডা. মিজানুর রহমান এর আগে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরাদেশের তথ্য তুলে ধরা হয়। দপ্তরাদেশ নম্বর: ৪৫.৪০.০০০০.০০২, তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
বক্তারা বলেন, অতীতের অভিযোগ ও বর্তমান ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ
মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন হয়রানি বা অবমাননার শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচি থেকে ডা. মিজানুর রহমানের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর দ্রুত অপসারণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি ও চ্যানেল এস-এর সিনিয়র সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি শামীম খান, সহসভাপতি সাইদুর রহমান সাইদ, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাংবাদিক এম এ ফয়সাল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কুদ্দুস পাড়, সহসাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম ও মীর মিল্টন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও আতাউর রহমান, রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আজম, প্রচার সম্পাদক মোখলেছুর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক শাহীন বিশ্বাস, জোহর হাসান সাগর, আরিফুল ইসলাম, আবু সাঈদ, জমির উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, এম এম জামান মনি, আজমল হোসেন জুয়েল, শেখ ইমরান, তরিকুল ইসলাম, মোতাহিরুল মাহিন, ফারুক সাগর, জয়দেব চক্রবর্তী, শিরিনা আক্তার, অর্জুন বিশ্বাস, সেকেন্দার আবুজাফর বাবু, রফিকুল ইসলাম নয়ন, আরিফ বিল্লাহ, কামাল হোসেন ও হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।