তৃণমূলের রায় বনাম ব্যক্তিগত বিরোধ হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন কোন পথে
মোহাম্মদ আরিফ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে পরিবার, শ্রম ও অর্থ বিসর্জন দিয়ে দলের জন্য কাজ করা একনিষ্ঠ নেতাদের মূল্যায়ন নিয়ে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত (৩০ জুন) ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কর্মী সভা ও সম্মেলনে তৃণমূলের সিংহভাগ নেতাকর্মী বর্তমান সভাপতি মুহাম্মদ আলম শাহীনের পক্ষে তাদের স্পষ্ট রায় দিয়েছেন।
জনসমর্থন ও সাংগঠনিক বাস্তবতা
উক্ত সম্মেলনে সভাপতি পদে মুহাম্মদ আলম শাহীন, আবু বক্কর ও সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দেলোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস প্রার্থী হন। ওপেন হাউসে উপস্থিত সাধারণ নেতাকর্মীদের সিংহভাগই মুহাম্মদ আলম শাহীনকে পুনরায় সভাপতি করার পক্ষে মতামত দেন। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন কমিটির ৯ জন নেতার মধ্যে ৭ জন যুগ্ম আহ্বায়কও লিখিতভাবে তার পক্ষে স্বাক্ষর করে সমর্থন জানান।
কিন্তু বিপুল জনসমর্থন ও দায়িত্বশীল নেতাদের বড় অংশের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মুহাম্মদ আলম শাহীনকে বঞ্চিত করার একটি চক্রান্ত চলছে বলে তৃণমূলের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সদস্য সচিব নুরুল আজিম সোহেল তার পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছেন।
একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আক্রোশকে ব্যবহার করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?
সমাধান ও প্রত্যাশা
একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিরোধ কখনো নেতৃত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। বরং ত্যাগ, যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূলের মতামতই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি। ওপেন হাউসে নেতাকর্মীরা যেহেতু প্রকাশ্যে মুহাম্মদ আলম শাহীনকে সমর্থন জানিয়েছেন, তাই দলের হাইকমান্ড ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এই জনমতের যথাযথ মূল্যায়ন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূলের।