আবু বকর সিদ্দিক:- মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত স্থায়ী নদী তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ উদ্বোধনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধসে পড়েছে।এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে প্রবল স্রোতের মুখে বাঁধের কয়েকটি সিসি ব্লক সরে গিয়ে বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ধসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নদীতীরবর্তী অনেক পরিবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা,দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দা মো:সাগর বলেন,ধসের ঘটনার পর আতঙ্কে রাতভর ঘুমাতে পারেননি তারা।আব্দুল লতিফ খান জানান ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে সব হারিয়েছিলেন।নতুন বাঁধে আশার আলো দেখলেও দেড় মাসের মধ্যেই সেই ভরসা নড়ে গেছে।রিতা রাণী দে ও মনির চন্দ্র দে বলেন,আবারও বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে। তাদের দাবি,শুধু জরুরি মেরামত নয়,পুরো প্রকল্পের নকশা,নির্মাণমান ও ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,যে বাঁধকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল,সেটি এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।ঘটনার পর লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।তিনি জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন,পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য,পদ্মা সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের একাংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পের গুণগত মান, নির্মাণকাজের তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।