ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি নাটোর:
ঐতিহ্যবাহী নাটোর রাজবাড়ীর আনন্দ ভবন প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতি, নাটোর জেলা শাখার বার্ষিক বনভোজন ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমিতির সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং অবসরে যাওয়া সহকর্মীদের সম্মান জানাতে এই আনন্দঘন মেলবন্ধনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাটোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) গাড়িচালক এবং বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতি, নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী। সভায় বক্তারা সরকারি চালকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত মান উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসর নেওয়া প্রবীণ সদস্যদের বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত নয়নে ও ভালোবাসায় বরণ করে নেয় সমিতি। এবারের আয়োজনে মোট পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি গাড়িচালককে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি ছিল। তবে অনিবার্য কারণবশত দুইজন সদস্য অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায়, উপস্থিত তিনজন প্রবীণ ও দক্ষ গাড়িচালককে সমিতির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা প্রাপ্ত সম্মানিত সদস্যরা হলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়িচালক নাসির উদ্দিন, নাটোর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নাটোর সদর কার্যালয়ের গাড়িচালক শ্রী নুকুল সরকার।
বিদায়ী সদস্যরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, সরকারি গাড়িচালকরা প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। দিন-রাত, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা কর্মকর্তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। কর্মজীবন শেষে সংগঠনের এই বিদায়ী সম্মাননা তাদের বাকি জীবনের জন্য এক বড় মানসিক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
সংবর্ধনা পর্ব শেষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতি, নাটোর জেলা শাখার উপদেষ্টা মো. নুরুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কাসেম আলী, জুনিয়র সহ-সভাপতি মো. ডাবলু এবং দপ্তর সম্পাদক মো. জনি। উপদেষ্টা মো. নুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি গাড়িচালকরা প্রশাসনের চাকা সচল রাখেন। আমাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চালকদের সর্বদা সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাগত দক্ষতা বজায় রেখে গাড়ি চালাতে হবে।
তিনি সড়ক নিরাপত্তা আইন মেনে চলা এবং সরকারি গাড়ির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি চালকদের যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কাসেম আলী বলেন, সংগঠনের মূল শক্তি হলো ঐক্য। আমরা যদি একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতে পারি, তবেই এই সমিতির সার্থকতা। বিদায়ী ভাইদের অবদান আমরা কখনোই ভুলব না। তারা আমাদের পথপ্রদর্শক।
দপ্তর সম্পাদক মো. জনি সংগঠনের সকল সদস্যদের নিয়মিত কল্যাণ তহবিল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান এবং সরকারি চালকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আলোচনা ও সংবর্ধনা সভা শেষে রাজবাড়ীর মনোরম পরিবেশে উপস্থিত সদস্যদের অংশগ্রহণে বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ শেষে এক ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আড্ডার আয়োজন করা হয়। কর্মজীবনের নানা গল্প, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং হাসিখুশিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আনন্দ ভবন প্রাঙ্গণ।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মো. হযরত আলী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি গাড়িচালক সমিতির প্রতিটি সদস্য একটি পরিবারের মতো। বিদায়ী সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। একই সাথে কর্মরত চালকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সততার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যেন দেশ ও জনগণের সেবা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করতে পারি। অনুষ্ঠানে নাটোর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত বিপুল সংখ্যক গাড়িচালক ও সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সন্ধ্যার পূর্বে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।