মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন, আলীকদম(বান্দরবান) প্রতিনিধি :
স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বর্ষ অতিক্রান্ত, তবু স্বপ্নের সুষম, সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র নির্মাণের প্রত্যাশা কেন আজও পরিপূর্ণ পরিণতি পায়নি, এ প্রশ্নই জনমানসে ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।
নদী, সমুদ্র, পাহাড়, অরণ্য, উর্বর মৃত্তিকা ও বিপুল মানবসম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, প্রকৃতির এমন প্রাচুর্য যেখানে সম্ভাবনার অমোঘ অভিসার, সেখানে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধকতা কোথায়?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিরিখে দায়কে কেবল কোনো একক শাসক বা সরকারের অভ্যন্তরীণ বিচ্যুতি হিসেবে দেখলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্ভাসিত হয় না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, প্রশাসনিক শৈথিল্য, দুর্নীতি, জবাবদিহির সংকট, নীতিগত অসংগতি ও আইনের শাসনের ঘাটতি, সমষ্টিগতভাবেই রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করতে পারে।
উন্নত রাষ্ট্রগুলো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাকে প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা, দূরদর্শিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সম্মিলিত প্রয়াসে সম্ভাবনার সোপানে রূপান্তর করেছে, বাংলাদেশেও প্রয়োজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতাচর্চার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সুশাসনের সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মাণ।
অতএব, প্রশ্নটি শুধু, কে শাসন করলেন? তা নয়, বরং রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ন্যায়নিষ্ঠ ও কার্যকর ছিল, কোথায় বিচ্যুতি ঘটেছে এবং সেই বিচ্যুতি সংশোধনের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক সদিচ্ছা কতটা দৃঢ়, সেই অনুসন্ধানই আজ সময়ের অনিবার্য দাবি।
সোনার বাংলা কেবল উচ্চারিত কোনো স্বপ্ন নয়, এটি ন্যায়, সাম্য, সুশাসন ও সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রচিন্তার সম্মিলিত ফসল।