মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন,স্টাফ রিপোর্টার : আলীকদম (বান্দরবান)
টানা চার থেকে পাঁচ দিনের অবিরাম বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা কার্যত এক জলাবদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বসতঘর, রান্নাঘর, গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও জনপথ তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও আশ্রিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, তবে সীমিত সম্পদের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে আলীকদম সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী রতন চৌধুরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দুর্যোগের শুরু থেকেই তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চাল, ডাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী খুইল্যা মিয়া চেয়ারম্যানপাড়া, বাজার মারমা পাড়া, সদর হিন্দুপাড়া, আলীমুদ্দিন চেয়ারম্যানপাড়া, নুরুজ্জামান পাড়া, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন বাজার পাড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দেন। তাঁর এই উদ্যোগে বহু অসহায় পরিবার তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়েছে।
শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। আলীকদম সদর হিন্দুপাড়ার ওপর দিয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানা, বাজার এবং আশপাশের গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে একটি নৌকার ব্যবস্থা করেন। নৌকাটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হয়। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ পান। কোনো যাত্রীর কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া হয়নি।
রতন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমি মেম্বার প্রার্থী হব কি না, সেটা পরে। মানুষের জীবন বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মানুষ বাঁচলে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে। মানুষই যদি না থাকে, তাহলে নেতৃত্ব দেব কাদের? তাই বিবেকের তাগিদে, মানবতার কল্যাণে আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, "সৃষ্টিকর্তার মহান কৃপায় "
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে তাঁর এই উদ্যোগ রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে।
বিশেষ করে বিনামূল্যের নৌকা সেবা চালুর ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
সচেতন মহলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতাই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধেরও উজ্জ্বল প্রকাশ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, রতন চৌধুরীর মতো সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন।
এই মানবিক উদ্যোগের সংবাদটি বন্যা পরিস্থিতির শুরুর দিকেই প্রকাশ করার পরিকল্পনা ছিল।
"তবে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে আলীকদমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মারাত্মক দুর্বলতার সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক না থাকায় তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং সংবাদ প্রেরণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঘটে। প্রযুক্তিগত এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তথ্য যাচাই শেষে সংবাদটি প্রকাশ করা হলো"।