পারিবারিক বিরোধে ছেলের আঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবার, রাজশাহীতে শোকের ছায়া
অপু দাস ,ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচন্ডি এলাকায় পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের একপর্যায়ে ছেলের আঘাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যক্তি মো. রেজাউল ইসলাম (৬৫)। সোমবার সকালে নগরীর চন্দ্রিমা থানার অধীন মেহেরচন্ডি কলাইতলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুর করিম এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রেজাউল ইসলামের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি চলছিল। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানা পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায়ই মতবিরোধ দেখা দিত। সোমবার সকালেও রেজাউল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাদের ছেলে রাকিবুর করিম এতে জড়িয়ে পড়েন এবং মায়ের পক্ষ নিয়ে বাবার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন।
একপর্যায়ে পারিবারিক এই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত অবস্থায় রাকিবুর একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। আঘাতের ফলে রেজাউল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, এমন একটি ঘটনার কথা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে একজন বাবার এভাবে প্রাণহানি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত রাকিবুর করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি পড়াশোনা শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ত্যাগ করেন এবং এরপর থেকে তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে না। তবে সংঘটিত আঘাতের কারণেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের স্বজনরা গভীর শোকাহত। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।।