প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের প্রতিবাদে হামলার শিকার সহকারী শিক্ষক, ঘটনায় শিক্ষক-জনতার বিক্ষোভ
উজ্জ্বল মন্ডল
কালকিনি, মাদারীপুর
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক সহকারী শিক্ষককে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ডান পা ভাঙা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন শিক্ষক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার শিক্ষক সমাজ, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাটে হামলার সূত্রপাত হয়। পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ স্থানান্তর করা হয়।
আহত রাজন শিকদার উপজেলার ১৫৮ নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন সহকারী শিক্ষক রাজন শিকদার। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে দু'পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে এ বিষয়ে বাকবিতণ্ডার পর স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে খেয়াঘাট এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রাজন শিকদারের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লা ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে লোহার রড, লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষককে দায়িত্ব পালন ও অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণে হামলার শিকার হতে হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি সহ ভবিষ্যতে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস শিকদার, সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া, অর্থ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সনজিৎ বাড়ৈ, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ আলী, আইসিটি সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সবুজ হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
একই দিন বিকেল ৪টায় শিক্ষক, স্বজন ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয় এটি শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আলোচিত এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।