ফেনীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌর এলাকায় মাসব্যাপী মশক নিধন অভিযান শুরু
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
ফেনীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌর এলাকায় মাসব্যাপী মশক নিধন অভিযান শুরু
আধুনিক ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো শুরু; নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতার আহ্বান প্রশাসকের
দেশে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ফেনী পৌরসভা মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু করেছে।
ফেনী পৌর প্রাঙ্গণে আধুনিক ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অভিযানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ফেনীর উপ-পরিচালক ও ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা, সেনিটারি ইন্সপেক্টর কৃষ্ণ ময় বণিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. দিদারুল আলম বলেন, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ফেনী পৌর এলাকায় যাতে এর বিস্তার না ঘটে, সে লক্ষ্যেই বিশেষ এই মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এজন্য নাগরিকদেরও সমানভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বাসাবাড়ি ও অফিস-আদালতের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশারি ব্যবহার এবং ছাদবাগান, ফুলের টব কিংবা বিভিন্ন পাত্রে দুই দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু বিস্তার রোধে মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে দুই দিন করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা জানান, এবারের অভিযানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক ফগার মেশিনের পাশাপাশি সংকীর্ণ গলিতে ওষুধ ছিটানোর জন্য হাতে বহনযোগ্য ফগার মেশিনও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ে অধিক এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন একজন সুপারভাইজারের নেতৃত্বে ছয়জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অভিযানে অংশ নেবেন। প্রতিদিন ৩০ লিটার মশক নিধন ওষুধ, ৫০ লিটার ডিজেল এবং ১৫ লিটার অকটেন ব্যবহার করা হবে। মাসব্যাপী নিয়মিত এ চিরুনি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ফেনী পৌর এলাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে পৌরসভা।