ফেনীর পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা, ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস।
এম,এ,করিম ভুঁইয়া,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।
ফেনী সদর উপজেলার, লেমুয়া ইউনিয়নের, উত্তর চাঁদপুর গ্রামের, মোহাম্মদ সাদেকের ছেলে, তরুণ সাইদুল ইসলাম (২১), সম্প্রীতি বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য কনস্টেবল হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন,
তিনি ডেমরা পুলিশ লাইনের ২০ তলা ভবনের নবমতলা একটি কক্ষে থাকতেন, সেখানে বিদ্যুতিক ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, মাত্র নয় মাস আগে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।
ভালোবেসে বিয়ে করে সুখী হতে পারেননি সাইদুল। কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি ভালোবেসে বিয়ে করে শুরু করেছিলেন নতুন সংসার, কিন্তু সে সংসার স্থায়ী হয়ে মাত্র দেড় মাস, এরপর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়, পরিচিতজনদের বাস্যমতে সেই সময় থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সাইদুল, বিচ্ছেদের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে একের পর এক স্ট্যাটাস লিখে যান সাইদুল, প্রকাশ করেছিলেন নিজের একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণা, কোথাও লিখেছেন মেহেদির রং শুকানোর আগে তুমি ভেঙ্গে চুরমার করে দিলে সাজানো সংসার, আবার অন্য এক পোস্টে লিখেছেন এটাই শেষ স্মৃতি তোমার নামে, এরপর থেকে তুমি শুধু নীরবতা। মানসিক যন্ত্রণা ও নিজের অস্থিরতার ইঙ্গিত, কিছু ভালোবাসার গল্পের শেষটা বিচ্ছেদ হয়,কিন্তু শেষ হয় নীরব কান্নায়, কিন্তু কোন কোন গল্প শেষ হয়ে যায় এমন এক সিদ্ধান্তে, যার শাস্তি শুধু একজন মানুষ নয়, সারা জীবন ভয়ে বেড়ায় একটি পরিবার, ফেসবুকে একটি ক্যাপশনে জীবনের শেষ লেখা কিছুক্ষণের মধ্যে আসে একটি সংবাদ যার কখনো বদলানো যাবে না,
তিনি ফেসবুকে মা-বাবাকে উদ্দেশ্য করে লিখেন দুঃখিত আব্বু আম্মু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না। আম্মু পারতেছে না আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই, মাফ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছু করার নাই।
মা-বাবা আত্মীয়-স্বজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে যায়, আশেপাশের স্বজনদের নীরব কান্না এমন এক মৃত্যুর সংবাদে থমকে যায় পৃথিবী। স্ত্রীর উপর অভিমান করে ভালোবাসার যন্ত্রণা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে সাইদুল চলে গেলেন না ফেরার দেশে। কিন্তু তা কি সমাধান?
মা বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি যে মেয়ের কারণে সাইদুল আত্মহত্যা করেছে, পচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক তার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেছেন।