মেহেদী হাসান খোকা,নির্বাহী সম্পাদক।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত মাদক বিক্রির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আমানতগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি আস্তানা রয়েছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে,এলাকাটির প্রতিটি অলিগলিতে দিন-রাত মাদক কেনাবেচা চলে;এমন কোনো গলি নেই যেখানে মাদক বিক্রি হয় না। আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে,বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক প্রভাবশালী নেতা এই ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা করেন।বিক্রয়লব্ধ অর্থের একটি অংশ আপন চৌধুরী বাবুর মাধ্যমে বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মঞ্জুর কাছে পৌঁছায়।এভাবেই আমানতগঞ্জের মাদক নেটওয়ার্কটি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে।এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত রয়েছেন পলাশপুরের ‘১.৫ নম্বর এলাকা’র বাসিন্দা মেহেদী দেওয়ান—যিনি আগে ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং আবুল খায়ের আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি শুরুতে জাকির ভূঁইয়ার মাধ্যমে ছাত্রলীগে যুক্ত হলেও বর্তমানে আপন চৌধুরী বাবুর (৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক) নির্দেশনায় বিএনপিপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় এবং জমজমাট মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। এই ব্যবসাটি পুরোপুরি আপন চৌধুরী বাবুর নিয়ন্ত্রণে।এর মূল হোতাদের মধ্যে রয়েছেন ইব্রাহিম (৫ নম্বর ওয়ার্ড, পলাশপুর) এবং ‘ইয়াবা সুন্দরী’ আলফি (পলাশপুর)—উভয়েই আপন চৌধুরী বাবুর অনুসারী—যারা বাবুর নিয়ন্ত্রণে থেকে নিজেদের মাদক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন শিল্পী ও মোল্লা সুমন—বিষয়টি বরিশালের সবারই জানা। মোল্লা সুমন প্রতি মাসে আপন চৌধুরী বাবুকে ৫০ হাজার টাকা ‘কাটমানি’ (সুরক্ষা বা মাসোহারা) দিয়ে মাদক বিক্রি করছেন। পলাশপুরের ৪ নম্বর এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন মিঠুন (পিতা: জাকির মোহরি)।অন্যদের মতোই তিনিও আপন চৌধুরী বাবুর অনুসারী;স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে,তিনিও বাবুর নিয়ন্ত্রণে থেকে নিয়মিত মাদক বিক্রি করেন। এছাড়া পলাশপুর ৫ নম্বর এলাকায় রয়েছে আলিফ (পিতা: মো. শহীদ)—যিনিও আপন চৌধুরী বাবুর অনুসারী এবং বাবুকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে মাদক ব্যবসা চালান। পলাশপুর ৭ নম্বর এলাকার ‘ঘেরের পাড়’ এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা (যিনিও বাবুর অনুসারী) সক্রিয় রয়েছেন।সেখানে বাবলু আপন চৌধুরী বাবুর নিয়ন্ত্রণে থেকে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করেন এবং নিয়মিত মাসিক মাসোহারা প্রদান করেন। পলাশপুর ৫ নম্বর এলাকায় সক্রিয় আছেন তানাই,যিনি বাবুকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন।পলাশপুর বউ বাজার এলাকায় সোহাগ শিকদার (পিতা: শাহজাহান)—যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক—দীর্ঘদিন ধরে বাবুকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছেন। পলাশপুর ৪ নম্বর এলাকায় রয়েছে ‘ভোলাইয়া রাকিব’(লাইল্যা কালার ছেলে); আপন চৌধুরী বাবুর সহযোগী মিঠুন ও ইব্রাহিম তাকে মাদক সরবরাহ করে থাকে। এমন আরও অনেকেই আছেন; এই তালিকা অন্তহীন।অন্যদের মধ্যে রয়েছেন:ক্লাস্টার ভিলেজ ১-এর জহিরুল (ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক,পিতা: আইনাল ব্যাপারী);পলাশপুর পিডিবি লেনের জনি দেওয়ানের ছোট ভাই মেহেদী দেওয়ান (জনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে দাবি করেন); ক্লাস্টার ভিলেজ ২-এর মারুফ (পাইকারি বিক্রেতা,পিতা: মরহুম হানিফ হাওলাদার); ক্লাস্টার ভিলেজ ৫-এর ডিজে আলাউদ্দিন; ক্লাস্টার ভিলেজ ৫-এর শাহিন ওরফে ‘জউরা শাহিন’; ক্লাস্টার ভিলেজ ৭-এর সিরাজ;দলিল উদ্দিন স্কুলের পেছনের এলাকার লিমন,রাব্বি ও জাহিদ;ক্লাস্টার ভিলেজ ৬-এর জুয়েল; এবং ক্লাস্টার ভিলেজ ৭-এর মোস্তফার ভাতিজা আমিন। রিপন (ক্লাস্টার ভিলেজ-৭-এর জয়ফুলির ছেলে); সজল (ক্লাস্টার ভিলেজ-৫-এর ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা);—এরা সবাই ব্যবসায়ী; সোহাগ ওরফে ‘টিনফোটা সোহাগ’; ক্লাস্টার ভিলেজ-১-এর রাহাত (বাবা: মোস্তফা সিকদার); শাওন (ক্লাস্টার ভিলেজ-১-এর মেহেদীর বন্ধু); আশিক চৌধুরী (ক্লাস্টার ভিলেজ-১-এর আপন চৌধুরী বাবুর ভাই) ক্লাস্টার ভিলেজ-৫-এর ‘কালা নয়ন’গান্ডার সোহেল’এবং অপু (ক্লাস্টার ভিলেজ-৫-এর শহীদের ছেলে), যিনি বর্তমানে বাবু হত্যা মামলার আসামি হিসেবে জামিনে আছেন।
আপন চৌধুরী বাবু—যিনি বর্তমানে বরিশালের আমানতগঞ্জ এলাকার ‘মাদক গডফাদার’ এবং বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক—তিনিই এখানে মূল ব্যক্তি।
স্থানীয় গণ্যমান্য বাসিন্দাদের ধারণা, এই সিন্ডিকেটকে যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়,তবে পলাশপুরের ৮০ শতাংশ মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।মোহাম্মদপুরের শওকত ও তার সহযোগীরা আপন চৌধুরী বাবুর (স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক) নেতৃত্বে পুরো আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে;এই সিন্ডিকেটটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন আপন চৌধুরী বাবু,যিনি ‘কালা বাবু’ নামেও পরিচিত।এই বিষয় কাউনিয়া থানার পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও সেটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অপ্রতুল তাই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যোরদার অভিজানের আহব্বান করছে কেউ কেই।সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরে ম্যাক্সিমাম জায়গাতেই সরকারদলীয় লোকই মাদক বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে হর হামেশাই। তাই সরকারের এই মাদক বিরোধী অভিযান মুখ থুবড়ে পড়বে বলে স্থানীয় সুশীল সমাজের অভিযোগ।