বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় এক আসামি কারাগারে, অন্যদের জামিন
ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহীর বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে অনধিকার প্রবেশ, চাঁদা দাবি এবং ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সুরুজ আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ (এমএম-৫) মামলার আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. আশিকুর রহমান সুরুজ আলীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অপর অন্যান্য আসামিদের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদা দাবি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের করা মামলা (মামলা নং-০৬, তারিখ: ৮ মার্চ ২০২৬) দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরই মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের পর্যায়ে আসে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মার্চ ২০২৬ রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানার শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও একটি পিস্তল নিয়ে প্রবেশ করে। তারা ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় ১ নম্বর আসামি নূরে ইসলাম মিলন সভাপতির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে কোমরের নিচে একাধিকবার কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার শরীরে ১৩টি সেলাই দেন।
ঘটনার পর বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে পাঠানো সুরুজ আলী রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। এছাড়া তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিলের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক প্রধান অভিযুক্তদের একজন সুরুজ আলীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন আদালতে চলমান রয়েছে।