বালু রাখা নিয়ে সংঘর্ষ শ্লীলতাহানির অভিযোগে তদন্তে ভিন্ন চিত্র
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হলদিয়া (দেওয়ানকান্দি) গ্রামে রাস্তার ওপর বালু রাখা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশি তদন্ত।গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে বালু সরানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং পরে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।এক পক্ষের অভিযোগে প্রাইভেটকার ভাঙচুর,টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।পরে স্বপন শেখের স্ত্রী সুমা বেগম গত ৭ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা করেন।মামলায় দেওয়ান পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ঘরবাড়ি লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন লৌহজং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অভিজিৎ পোদ্দার।তদন্ত শেষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।পাশাপাশি এলাকার নিরপেক্ষ সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।তদন্তে শ্লীলতাহানি বা যৌন হয়রানির অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এমনকি টানাহেঁচড়ায় পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার দাবি করা হলেও কোনো ছেঁড়া পোশাক আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,মূল বিরোধের সূত্রপাত রাস্তার ওপর বালু রাখা নিয়ে।তবে বেআইনি জনতাবদ্ধে বসতবাড়িতে প্রবেশ,ঝগড়া ও হুমকির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭ ও ৫০৬ ধারার বিষয় তদন্তে উঠে আসে।লৌহজং থানার ওসি মো:বোরহান উল ইসলাম বলেন,বালু রাখা নিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি হয়।তিনি জানান,ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলা করেছে এবং তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের পরও কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।এ নিয়ে দেওয়ানকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা একপেশে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।স্থানীয়দের দাবি,ঘটনাটি নিয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা এড়ানো সম্ভব।