ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: ভূমিমন্ত্রী
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মানজনক যোগাযোগ দুই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও কার্যকর হবে।
রোববার বিকেলে রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বহু বছরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্য। উভয় দেশই বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ আমাদের সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মূল্যবোধকে ধারণ করে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যোগচর্চা শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষের মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ জীবনযাপনের একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও যোগব্যায়ামের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। প্রাচীনকালে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যোগচর্চার প্রচলনের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এটি ভারত, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।
তিনি বলেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। সুস্থ সমাজ গঠনে এ ধরনের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভূমিমন্ত্রী। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা। তারা যোগব্যায়ামের উপকারিতা এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদেরও শুভেচ্ছা জানানো হয়।