ভূমি অফিসে সাধারণ জনগণ দালাল ধারায় প্রতারিত
রিপন সরকার
বাঞ্ছারামপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া (প্রতিনিধি)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র নামজারি ও জমাখারিজের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে লাখ টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবা গ্রহীতাগণ এধরণের প্রতারক চক্রের খপ্পরে পরে, না বুঝেই আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে উপজেলা ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডির বিবরণ থেকে জানা যায়, সরকারি নিয়ম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। যেখানে আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং অনুমোদন ফি ১১০০ টাকা অনলাইনে জমা দিতে হয়। সরাসরি নগদ অর্থ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নে সক্রিয় কিছু দালাল ও প্রতারক চক্র উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ ভূমি সেবা প্রার্থীদের নামজারি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষাধিক পর্যন্ত টাকা দাবি করছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাঞ্ছারামপুর জনাব মো: রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান যে, "বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সাথে নাগরিকদের ভূমি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ বা অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ ভূমি সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে মর্মে আমরা জানতে পেরেছি, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এসকল প্রতারকদের সাথে ভূমি অফিসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উপজেলার সকল জনগণকে জানাতে চাই, নামজারি সংক্রান্ত কাজে সরকারি ফি এর অতিরিক্ত একটি টাকা প্রদানেরও প্রয়োজন নেই। যদি কেউ নামজারি করিয়ে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবী করে তাহলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা উপজেলা ভূমি অফিসে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।