মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা।
ঢাকা: দেশে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। আসন্ন রমজানের আগেই দাম বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়াতে চায়। এ লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
উল্লেখ্য, দুই মাসেরও কম সময় আগে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যেই নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখনই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
আসন্ন রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
তার এ বক্তব্যে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য, আমদানি ব্যয় এবং জাহাজভাড়ার পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আসন্ন রমজানে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা এর আগে-পরে বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের। এখন ভোক্তাদের নজর থাকবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপর।
সংবাদসূত্র: বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরবরাহ করা তথ্য।