মংডুতে মিয়ানমার বাহিনীর বিমান হামলা, উদ্বেগে টেকনাফ সীমান্তবাসী
মোহাম্মদ মোহাম্মদ আরিফ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী মংডু এলাকায় বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের উড়াউড়িও লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেন তারা। এতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মংডু এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়েছে। বিমান হামলার পর সীমান্তের ওপারে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলেও কয়েকজন বাসিন্দা জানান। তবে সংঘর্ষে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘাত সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলছে। অতীতে এ সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় গোলা এসে পড়া, গুলির শব্দ শোনা এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তবে সর্বশেষ বিমান হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে যাচাই করে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।