মনপুরায় প্রাচীন হাজিরহাট বাজার ধ্বংসের পায়তারা,ভিটি বরাদ্দের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের দোকান পাট বন্দ করে প্রতিবাদ।
===========================
মোঃ নিরব মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি (ভোলা)
==========================
ভোলার মনপুরায় উপজেলা প্রশাসনের একগুঁয়েমি ও হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে হাজিরহাট বাজারের হাজারো ব্যবসায়ী। উপজেলা পরিষদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশে সরকারি জমিতে ভিটি বরাদ্দের নামে অর্ধশত দোকান নির্মাণের আত্মঘাতী ও অবৈধ উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে বাজারের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সর্বাত্মক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা হাজিরহাট বাজারের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে বুধবার রাতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন ব্যবসায়ীরা। রাতে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বে বাজারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি মাইকিং করে এই সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। হঠাৎ এমন কঠোর কর্মসূচিতে বিপাকে পড়েন বাজারে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারা, বাধ্য হয়ে তাঁদের খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়।
জানা গেছে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট বাজারে ইতিমধ্যে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু ৫২টি নতুন ভিটি বরাদ্দের নামে উপজেলা প্রশাসন ফায়দা হাসিলের হীন উদ্দেশ্যে বাজারের ঠিক পাশেই নতুন করে বাজার গড়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে ৪২টি ভিটি বরাদ্দের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে এবং চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশের জমিতে ১০টি ভিটি বরাদ্দের জন্য ১ লাখ টাকা করে পে-অর্ডার নিয়ে আবেদন আহ্বান করা হয়। পরে লটারির মাধ্যমে ভিটি বরাদ্দের নামের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন।
গত বুধবারই এই অবৈধ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবদুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতা মোঃ জসিম ও মোঃ আব্বাস জানান, ৫০ বছরের পুরানো হাজিরহাট বাজারে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী সুনামের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন আর্থিক লোভে পড়ে বাজারের কাছে নতুন ভিটি বরাদ্দ দিয়ে হাজিরহাট বাজার ভেঙে ফেলার আত্মঘাতী উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের এই অবৈধ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তাঁরা দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও আর্থিক লোভের বলি হতে চলেছে দীর্ঘদিনের এই পুরোনো বাজার। কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাতের অন্ধকারে বাজার ভেঙে দেওয়ার এই হঠকারী চক্রান্ত কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, বেলায়াত হোসেন ও মিজান পাটোয়ারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন— প্রশাসন যদি এই আত্মঘাতী ভিটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া চিরতরে বন্ধ না করে, তবে সামনে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যার দায় সম্পূর্ণ প্রশাসনকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে, জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও তীব্র আন্দোলনের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদের আর্থিক খাত বাড়ানোর লোক দেখানো অজুহাতে এই ভিটি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আপাতত এই বিতর্কিত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেবল মৌখিক বা সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে এই ষড়যন্ত্র ধামাচাপা দেওয়া যাবে না লিখিতভাবে এই অবৈধ বরাদ্দ চিরতরে বাতিল না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।