মাদারীপুরে ডাম্পিং স্টেশনের জায়গা নির্ধারণ, সম্ভাব্য ব্যয় ৬২ কোটি টাকা
জহিরুল ইসলাম হৃদয়
মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
দেড়শ বছরের পুরনো প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভার দীর্ঘদিনের আবর্জনা ও পরিবেশ দূষণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে। পৌর এলাকায় একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট (ডাম্পিং স্টেশন) নির্মাণের জন্য অবশেষে জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ‘চর ব্রাহ্মমদী, মৌজার ৩ একর জমির নির্ধারিত স্থানটি পরিদর্শণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার ও ভূমি কর্মকর্তারা জমিটি মেপে সীমানা খুঁটি ও লাল নিশানা স্থাপন করেন। এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির এই প্রাচীন পৌরসভায় এতদিন কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে ফেলতে হতো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ও নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জনসাধারণের এই চরম ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সরকারি খাস জমিতে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এরই পরিপ্রক্ষিতে জেলা প্রশাসন সাড়ে ৫ একর খাস জমি পৌরসভাকে মালিকানা হিসেবে বুঝিয়ে দেয়, যার মধ্য থেকে ৩ একর জমিতে এই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটটি নির্মিত হচ্ছে।
আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে হবে ইকোপার্ক
জায়গা পরিদর্শন শেষে মাদারীপুর-০২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন
ডাম্পিং স্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে চর ব্রাহ্মমদী এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে একটি চমৎকার ইকোপার্কও তৈরি করা হবে। সেখানে ভ্রমণপিপাসু ও সাধারণ মানুষ মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং বিনোদনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া এই প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সীমানা নির্ধারণ ও পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,
জেসমিন আক্তার বানু, প্রশাসক, মাদারীপুর পৌরসভা
ওয়াদিয়া শাবাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সদর
খন্দকার আবু আহম্মদ ফিরোজ ইলিয়াস, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা
আবুল কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সদর মডেল থানা
এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে মাদারীপুর শহর একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব মডেল শহরে পরিণত হবে।