মিরসরাইয়ে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ
হারাধন চক্রবর্তী, মিরসরাই প্রতিনিধি :
আর মাত্র কয়েক দিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামোয় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখলাম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমা কারিগররা।
অনেক স্থানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাত জেগে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কারিগররা।কমর আলী মহাজন বাড়ী আদি প্রতিমা কারিগর নিতাই আচার্য্য বলেন এ বছর প্রতিমার সাজসজ্জার রং,কাপড়,রং এ দাম বেশী।অন্যান্য কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমার চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে সময় স্বল্পতা ও অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
কারিগররা জানান, কাঠামোর উচ্চতা, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। চাহিদা বাড়ায় এ বছর প্রতিমার দামও কিছুটা বেড়েছে।
মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। কোথাও প্রতিমার কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকসহ অন্যান্য সহগামী প্রতিমার কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে মূল প্রতিমা দেবী দুর্গার শেষ মুহূর্তের কাজ এখনো চলছে।
প্রতিমা কারিগররা জানান, একটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু থেকে শেষ করতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে অবয়ব তৈরি, মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং করা এবং সবশেষে অলংকরণ ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়। প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন দক্ষতা, সময় ও ধৈর্য। এবার অর্ডার বেশি থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমার কাজ শেষ করাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। নবনির্বাচিত সভাপতি অনির্বাণ চৌধুরী রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক মোহন দে বলেন, “এবার মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। আশা করছি, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মিরসরাইয়ে উৎসবটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।”
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মিরসরাই উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ১৬ টি ইউনিয়নে মোট ৯০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন থাকবে।
পূজাকে ঘিরে পৌরসভা থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি পূজামণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই অপেক্ষা করছেন আনন্দঘন এই উৎসবের। আর কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।