মীরসরাইয়ে তিন দিনব্যাপী বই পড়া উৎসবের সমাপনী
হারাধন চক্রবর্তী, স্টাফ রিপোর্টার,
মিরসরাই ::
মীরসরাইয়ে
প্রবীণদের বইপাঠ, শরতের কবিতা আবৃত্তি ও বাউল গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী বই পড়া উৎসব। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মীরসরাই পৌরসভার পূর্ব গোভানিয়ায় রোকেয়া সাত্তার স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিবিষয়ক নানা কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শরতের বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। এ সময় কবিদের আবৃত্তির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের স্বরচিত কবিতা পরিবেশনাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
যুগান্তর স্বজন সমাবেশ মীরসরাই উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মীরসরাই পৌরসভার প্রশাসক তানভীরুল কাদের। বক্তব্যে তিনি বই পড়ায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পাঠাগারের আশপাশের এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রফেসর আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কবি ও সাংবাদিক মাহবুব পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীরসরাই প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল আলম, প্রফেসর সামছুন্নাহার, মীরসরাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি রাজিব মজুমদার, চট্টগ্রামের কবি ও লেখক আলমগীর হোসেন, কবি ও সমাজসেবক রাফিয়া ডলি, কবি ও লেখক নিগার সুলতানা, কবি রেহেনা আক্তার, কবি শাহাদাত হোসেন লিটন, লুৎফুল কবির ভূঞা, মাস্টার হোছাইন সবুজ, কবি ও শিক্ষক শিউলি বড়ুয়া, কবি ও শিক্ষক শাহীন মীর শাহিন, মাস্টার মাজহারুল হক, মাওলানা আলাউদ্দিন, তাছলিমা চৌধুরী সুরভী, মো. আলমগীর হোসেন, জলিল মাস্টার, শক্তি মজুমদার ও মুসলিম উদ্দিন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক নাছির উদ্দিন, সাংবাদিক ইমাম হোসেন, জাবেদ হোসাইন, শিহাব উদ্দিন শিবলু, আজমল হোসেন, হারাধন চক্রবর্তী, রাকিবুল হাসান, মুসলিম উদ্দিন ও তাবিবুর রহমানসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের বইপাঠে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া খবরিকার নির্বাচিত পাঁচজন সেরা কবি—সিত্তুল মুনা, রাফিয়া ডলি, নিগার সুলতানা, রেহেনা আক্তার ও মাহবুবা চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মাহবুবা চৌধুরীর পক্ষে স্মারক গ্রহণ করেন কবি আলমগীর হোসেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চট্টগ্রাম থেকে আগত সুজন বাউল ও শুভশ্রীর পরিবেশনায় লালনগীতি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। বইপাঠ, কবিতা ও সংগীতের সম্মিলনে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।