মোহাম্মদ আলম: ত্যাগ, আদর্শ ও রাজপথের রাজনীতির এক প্রতীক
মোহাম্মদ আরিফ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
রাজনীতির ইতিহাসে সুসময়ের কর্মী আর দুঃসময়ের কর্মীর মধ্যে সবসময়ই একটি স্পষ্ট পার্থক্য থাকে। ক্ষমতার সময় অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, কিন্তু প্রতিকূল সময়ে কেবল আদর্শে বিশ্বাসী মানুষই সংগঠনের পাশে থাকেন। তাই একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি নির্ধারিত হয় তার ত্যাগী কর্মীদের মাধ্যমে।
হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে যে কয়েকজন কর্মীর নাম উঠে আসে, তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলম অন্যতম। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকের মতে, গত প্রায় ১৭ বছর তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা এবং নানা চাপের মধ্যেও তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
বর্তমানে দল পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। এই সময়ে তৃণমূলের একটি অংশের মধ্যে এমন অনুভূতি রয়েছে যে দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তাদের বিশ্বাস, কঠিন সময়ে যারা সংগঠনের পাশে থেকেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদান ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
রাজনীতিতে নতুন মানুষের আগমন স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবেদিত কর্মীদের অবদানও স্মরণ রাখা জরুরি। একটি সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কর্মীদেরও যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই মনে করেন, মোহাম্মদ আলম তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক দায়িত্বকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
একটি রাজনৈতিক সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে তার ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের ওপর। যারা দুঃসময়ে সংগঠনের পাশে থাকেন, তারাই সংকটকালে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি হয়ে ওঠেন। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতীতের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
আমার বিশ্বাস, মোহাম্মদ আলমের মতো দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করা কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়; এটি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও প্রতীক। এমন মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মীদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং সংগঠনের ভিত আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।