অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে যাত্রীবাহী বাসে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে ফেন্সিডিল পরিবহনের সময় এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫। অভিযানে তার কাছ থেকে ১১২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিলের মধ্যে ৫৫ বোতল এস্কাফ এবং ৫৭ বোতল ফেয়ারডিল ব্র্যান্ডের বলে জানিয়েছে র্যাব।র্যাব-৫ সূত্রে জানা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অবৈধ অস্ত্র, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অপহরণ, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাহিনীটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকের বিস্তার রোধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার কড়াইতলা মোড় এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জমজম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।তল্লাশির একপর্যায়ে বাসে থাকা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা মালামাল ও বহনকৃত সামগ্রী তল্লাশি করে ১১২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই মো. শহিদুল ইসলাম (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার হাউসনগর (বারিকবাজার) এলাকার বাসিন্দা।র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিলগুলোও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। কখনো পণ্যবাহী যানবাহন, কখনো ব্যক্তিগত পরিবহন, আবার কখনো সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে গণপরিবহন ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করা হয়। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান এবং নিয়মিত নজরদারির ফলে এসব চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।অভিযানে উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।র্যাব-৫ আরও জানিয়েছে, মাদক কারবারি ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে