রাজশাহীর আলোচিত রেজাউল হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিব ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেফতার
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানাধীন মেহেরচণ্ডী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বহুল আলোচিত রেজাউল করিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. রাকিব উর রহমান (২২)-কে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা। র্যাব-৫, সদর কোম্পানি (রাজশাহী) এবং র্যাব-৪, সিপিসি-১ (মিরপুর)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাব জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে বাহিনীটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ছিনতাই, প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত রেজাউল করিম (৬০) রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২২ জুন ২০২৬ সকালে তার ছেলে ও মামলার এক নম্বর আসামি মো. রাকিব উর রহমান চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চান। এ সময় রেজাউল করিম তার স্ত্রী আঞ্জুরা বেগমকে টাকা দিতে বললে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে রেজাউল করিম তার স্ত্রীকে মারধর করতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন পাশে থাকা ছেলে রাকিব বাড়ির উঠানে থাকা একটি ভারী কাঠের মুণ্ডুর দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অভিযুক্ত ছেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহত রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. আঞ্জুরা বেগম বাদী হয়ে ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় ছেলে রাকিবকে প্রধান আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে র্যাব। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে র্যাব-৫ ও র্যাব-৪-এর যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার মধ্য পাইকপাড়ার গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া রাকিব হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।