রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি আইনের বিষয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তই নিশ্চিত করুক সত্য
স্টাফ রিপোর্টার : মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র কথিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে রোহিঙ্গা ব্যক্তিদের ভিন্ন পরিচয়ে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।
তবে উল্লেখ্য, এ ধরনের অভিযোগ এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিষয়টির সত্যতা নিরূপণে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের পরিচিত কিছু প্রবীণ বাসিন্দার পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের ভুয়া অভিভাবক (পিতা-মাতা) হিসেবে দেখিয়ে সরকারি নথিপত্র প্রস্তুতের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা কেবল প্রতারণা বা জালিয়াতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও তা গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে আলীকদম উপজেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আবেদন—ভোটার তালিকা, জন্মনিবন্ধন এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত অন্যান্য নথি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুনঃযাচাই করা হোক। তদন্তে যদি প্রতারণা, জালিয়াতি বা ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে নিবন্ধনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন বাতিল এবং জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হবে তথ্য, প্রমাণ এবং আইনের ভিত্তিতে।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের মর্যাদা এবং আইনের শাসন রক্ষায় কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। তাই প্রত্যাশা—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।