মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার:আলীকদম (বান্দরবান)
পাহাড় যখন বৃষ্টির ভারে নতজানু, মাতামুহুরী যখন উত্তাল স্রোতে জনপদের স্বাভাবিক জীবনকে গ্রাস করতে উদ্যত, তখন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে মানুষের হাত। দুর্যোগের সেই কঠিন সময়ে সীমান্ত পাহারার দায়িত্বের পাশাপাশি মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)।
শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রায় ৭৫–৮০টি পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী, পদাতিক-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ মানবিক কার্যক্রমে চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয় দুর্গত পরিবারের হাতে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কক্সবাজার রিজিয়নের অধীনস্থ আলীকদম ব্যাটালিয়ন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না; চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ দমনের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসহায় মানুষের কল্যাণেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
চিকিৎসাসেবা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম বাহিনীর নিয়মিত মানবিক উদ্যোগের অংশ।
এদিন রোয়াম্ভু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নজির মেম্বারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে বিজিবি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক পরিবার যখন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছে, তখন একবেলার খাবারের নিশ্চয়তাও তাদের কাছে বড় আশ্বাস। সেই বাস্তবতায় বিজিবির এই উদ্যোগ কেবল খাদ্য বিতরণ নয়—এটি বিপর্যস্ত মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের মানবিক দায়বদ্ধতারও একটি প্রতীক।
ত্রাণ বিতরণকালে ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, বিভিন্ন পদমর্যাদার বিজিবি সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলীকদম ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেকোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে দ্রুত সহায়তা দিতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।
মানবতার প্রকৃত শক্তি সংকটের সময়েই প্রকাশ পায়। আলীকদমের বন্যাকবলিত পাহাড়ি জনপদে ৫৭ বিজিবির এই উদ্যোগ সেই সত্যকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল—রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও একটি মহান দায়িত্ব।