রৌমারীতে মোহাম্মাদিয়া হাসপাতালের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, দুই প্রতারক জনতার হাতে আটক
শাহের আলী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজারসংলগ্ন মোহাম্মাদিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর নাম ভাঙিয়ে কম খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের রৌমারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ব্যক্তি নিজেদের মোহাম্মাদিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে গ্রামবাসীর কাছে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে প্রচারণা চালায়।
এ সময় তারা জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে সংগ্রহ করতে শুরু করে। কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে গ্রামবাসী তাদের পরিচয় ও কার্যক্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেনি। একপর্যায়ে জনতা দুইজনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রংপুর জেলার খেজমত আলীর ছেলে তূর্য আহমেদ এবং জামালপুর জেলার শাহিন আলম।
খবর পেয়ে মোহাম্মাদিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, আটক দুই ব্যক্তির সঙ্গে হাসপাতালের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবার নামে অর্থ সংগ্রহের জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বিষয়টিকে প্রতারণা উল্লেখ করে বলেন, হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি চক্র এ ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “মোহাম্মাদিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসার নামে টাকা সংগ্রহ করে না। তাই কেউ যদি হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করে, তাহলে সাধারণ মানুষ যেন সতর্ক থাকেন এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।”
পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটক দুই ব্যক্তিকে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিভিন্ন সময় অসাধু চক্র হাসপাতাল, এনজিও কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। তাই এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের নামে অর্থ লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।