শান্তিগঞ্জে ঠাকুরভোগে জনদুর্ভোগ লাঘবে পাকা রাস্তা
দিলীপ কুমার দাশ, স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্ব পাড়া মসজিদ থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের কাঁচা রাস্তা অবশেষে পাকাকরণের আওতায় এসেছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে কাঁচা ও কাদামাটির এ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাত। এছাড়া মুসল্লিদের মসজিদে যাতায়াত এবং শিশুদের মক্তবে যেতে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্ব পাড়া মসজিদ থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত ২১৪ মিটার রাস্তার পাকাকরণের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় থাকা এই কাঁচা রাস্তাটি পাকা হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাবিব উল্লাহ জায়গীরদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান জায়গীরদার, সিনিয়র সদস্য আরজান খান, বিএনপি নেতা এলাপ উদ্দিন ভূইয়া, সিলেট মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ও মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শিহাব খান, যুবদল নেতা আফজাল হোসেন টিটু, হেলিম মিয়া, আব্দুল আহাব, মুক্তার খান, আলাউদ্দিন, ছুয়াব আলী, কালন মিয়া, নুর ইসলাম, চান মিয়া, আফরুজ খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এদিকে রাস্তা পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়ায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. কয়ছর আহমেদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঠাকুরভোগ গ্রামের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্য এম. কয়ছর আহমেদের বরাদ্দ থেকে ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্ব পাড়া মসজিদ থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত ২১৪ মিটার পাকা রাস্তা নির্মাণে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া একই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত আরও একটি কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের জন্য ৬ লাখ টাকার পৃথক প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান হতে চলেছে। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।