শায়েস্তাগঞ্জে প্রভাবশালী ব্যক্তির হামলা, মিথ্যা মামলা ও হুমকির কারণে এক অসহায় পরিবার ভুক্তভোগী।
গাজী আলী আকবর শ্যামল হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | ২৩ জুলাই ২০২৬
শায়েস্তাগঞ্জে একটি অনৈতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহলুল সুনাম এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল মন্নানের সাবেক স্ত্রী রিপা আক্তারের সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিলের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারটি বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের দাবি, মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান দীর্ঘদিন দুবাইয়ে অবস্থানকালে তার স্ত্রীর কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা পাঠান। পাশাপাশি শায়েস্তাগঞ্জে তার ঘর থেকে ভাড়া বাবদ আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় আব্দুল জলিল সহায়তা করেছেন বলেও দাবি পরিবারের।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান গত ১১ ফেব্রুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে রিপা আক্তারকে আইনগতভাবে তালাক দেন। বর্তমানে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এরপর বড় ছেলে আব্দুল ওয়াহিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও দোকানঘর হাতিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের জেলহাজতেও থাকতে হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২০ জুলাই আদালতে হাজিরা শেষে আব্দুল ওয়াহিদ ও তার তিন ভাই বাড়িতে ফেরার পর আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আহত হন। হামলায় আব্দুল ওয়াহিদ, তার বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আহত হয়ে হবিগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানানো হয়।
পরিবারটির দাবি, হামলার সময় প্রায় সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ গ্রহণ নিয়ে তারা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এর আগে গত ১৪ জুনও একই পক্ষের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আব্দুল ওয়াহিদকে ২০ লাখ টাকা অথবা মোহাম্মদ আব্দুল মন্নানের বসতভিটা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।