শাহ ফতেহ আলী পরিবহন চলাচলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম।
জিহাদ কাজী
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
উত্তরবঙ্গের অন্যতম যাত্রীবাহী প্রতিষ্ঠান শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের ঢাকা মহাখালী কাউন্টার পুনরায় চালু এবং পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবহনটির কর্মরত শ্রমিকরা।
বুধবার (১ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শাহ ফতেহ আলী পরিবহন উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের আস্থা অর্জন করে সুনামের সঙ্গে সেবা দিয়ে আসছে। শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং হাজারো যাত্রীর যাতায়াত এই পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল।
তারা অভিযোগ করেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও কাউন্টারটি পুনরায় চালু করা হয়নি। এর ফলে উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পরিবহনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কাউন্টার বন্ধ হওয়ার পর থেকেই শ্রমিকরা আইনানুগ উপায়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বগুড়া জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতি, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, গত ১২ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঈদুল আজহার ১৫ দিনের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে মহাখালী কাউন্টার পুনরায় চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে ঢাকা মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার খুলে দিতে হবে; মহাখালী বাস মালিক সমিতির একক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে সকল পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে; শ্রমিকদের কর্মস্থলে হয়রানি ও লাঞ্ছনা বন্ধ করতে হবে; এবং সকল পরিবহনের জন্য সমান ব্যবসায়িক সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিকরা বলেন, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না; যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে একতা পরিবহনের ঢাকা মহাখালী–বগুড়া–নওগাঁ রুটে চলাচলকারী কোচ চলাচল বন্ধের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।
এ সময় শ্রমিকরা তাদের দাবিগুলো জনস্বার্থে গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।