জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার (মানিকগঞ্জ)
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা এবং সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় বক্তারা বলেন,মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের কারণে তরুণদের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তি,অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।বক্তারা আরও বলেন,তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ।তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড,শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ সেলিম আলদীন।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিস মিয়া,সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মালেক এবং ফুকুরহাটী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোসারফ হোসেন। তিনি বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এজন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, কোথাও মাদক কেনাবেচা, মাদক সরবরাহ বা সেবনের তথ্য পাওয়া গেলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।তথ্যদাতাদের সহযোগিতার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রথমে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে।পাশাপাশি এলাকার তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।সভা শেষে আয়োজক ও এলাকাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, প্রচার-প্রচারণা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।মাদককে না বলি, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ি’এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সভাটি শেষ হয়।