মোঃ হামিদুর রহমান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি (নওগাঁ):
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কথিত পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর রাতের অন্ধকারে সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে ৯ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা ইউনিয়নের উত্তর পাতাড়ী সীমান্তের ২৪৪/এমপি সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন বাংলাভাষী ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু ছিলেন।
খবর পেয়ে আদাতলা বিওপির বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেন এবং সীমান্তের শূন্যরেখাজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করেন। বিজিবির সতর্ক ও কঠোর অবস্থানের কারণে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক বিবেচনায় প্রথমদিকে ওই ব্যক্তিরা শূন্যরেখায় অবস্থান করলেও পরবর্তীতে বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি।”
তিনি আরও জানান, রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বিএসএফ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে দেয়। পরে অন্ধকারের সুযোগে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ওই ৯ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বর্তমানে আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বিজিবির তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ জুন ও ৮ জুন নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার উপজেলার পৃথক সীমান্ত দিয়ে মোট ৪০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময়ও বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতার মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।