সাপাহার সীমান্তে ৯৪ কেজির দুর্লভ কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার
মোঃ হামিদুর রহমান, ভ্রাম্যমাণ নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৯৪ দশমিক ৭৫০ কেজি ওজনের একটি দুর্লভ কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি প্রাথমিকভাবে ১১-১২ শতকের উচ্চমানের কষ্টিপাথরের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মোঃ হাচানুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, খঞ্জনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মরাডাঙ্গা এলাকায় বন বিভাগের পুরোনো আকাশমণি বাগানে একদল চোরাকারবারি দুর্লভ কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সমবেত হবে।
সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মোঃ হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির আট সদস্যের একটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। আনুমানিক রাত ৮টার দিকে সীমান্ত পিলার ২৫০/২-এস থেকে প্রায় ২৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরাডাঙ্গা এলাকার বন বিভাগের পুরোনো আকাশমণি বাগানে এ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা তাদের সঙ্গে থাকা মূর্তিটি ঘটনাস্থলে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির টহলদল ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করে। মূর্তিটির ওজন ৯৪ দশমিক ৭৫০ কেজি।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি স্থানীয় নজিপুর জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কারিগর দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে প্রাথমিকভাবে এটি দুর্লভ কষ্টিপাথরের মূর্তি হিসেবে শনাক্ত হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পাহাড়পুরের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকৃত মূর্তিটি সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মূর্তিটিকে ১১-১২ শতকে ব্যবহৃত উচ্চমানের কষ্টিপাথরের একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানিয়েছেন, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি জানান।