জসিম উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুরে প্রান্তিক, অসহায় ও দুস্থ নারীদের কর্মমুখী করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। সংগঠনটির এ উদ্যোগে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের তোঁতারখিল এলাকার আয়েশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘নারীর দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে একটি নতুন সম্ভাবনার যাত্রা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে আরও নারীর মাঝে সেলাই মেশিন ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং পরিবারের আয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে উপকারভোগী নারীরা ঘরে বসেই সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ পর্যায়ের অসহায় নারীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে যেসব নারী আর্থিক সংকটের কারণে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাঁদের জন্য সেলাই মেশিন হতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।
২০১৯ সাল থেকে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা ও শিশুর বিকাশ, সমাজের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন এবং তরুণদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন সভাপতি
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি শামস জেরিন জর্জী। বক্তব্যে তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। পাশাপাশি নারীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নারীদের কর্মমুখী করতে উদ্যোগটি পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি এ কর্মসূচিকে স্বাগত জানান এবং গ্রামীণ নারীদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের জন্য ইতিবাচক। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারলে তাঁদের পরিবারও উপকৃত হবে। এ সময় তিনি লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন কর্তৃপক্ষকে এ কার্যক্রম শুধু একটি ইউনিয়ন বা উপজেলায় সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে বিস্তারের আহ্বান জানান।
তাঁর মতে, প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রব, লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালক আনোয়ার পাশা, ডা. বি. কে. দাস বিজয়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. বেল্লাল হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান লিঠন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সেলাই মেশিন গ্রহণকারী উপকারভোগী নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহসান হাবিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় ও দুস্থ নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আরও বেশি নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারবেন।