হবিগঞ্জে সরকারী রাস্তা দখল, প্রতিবাদ করায় ৫ লাখ দিয়ে হত্যা করার হুমকি,জীবন বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন।
গাজী আলী আকবর শ্যামল, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৌরসভার রাস্তা দখল করে বসত বাড়ির বাউন্ডারী নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি এবং ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার বাগুনিপাড়া গ্রামের মৃত মামদ হোসেনের ছেলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজগাও এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী টেনু মিয়া লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নিজগাঁও গ্রামে অবস্থিত চরনুর আহম্মদ মৌজার, এস এ খতিয়ান নং- ১১৩ ও এসএ ২৬০ দাগের পশ্চিম দিকের পাশ্ববর্তী রাস্তাটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলাচলে ব্যবহার করে আসছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিক সদর উপজেলার চরহামুয়া গ্রামের জমির আলীর স্ত্রী পারভিন আক্তার ওরফে জমিলা খাতুন ৫ ফুট প্রস্থের ওই রাস্তাটি অবৈধভাবে দখল করে বাড়ির বাউন্ডারী নির্মাণ করেছেন। এতে করে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারী মাসে জমিলা খাতুন রাস্তার ইট সলিং তুলে নেয়ার পায়তারা শুরু করে। বিষয়টি তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে অবগত করেন। এতে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গত ২৬ মার্চ সে তার লোকজন নিয়ে রাস্তার ইট সলিং তুলে নেয়। পরে জোরপূবর্ক রাস্তার উপর ৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে। এতে তিনি বাধা দিলে জমিলা খাতুন ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। যে কারনে গত ২৩ এপ্রিল নিরাপত্তা চেয়ে তিনি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৯৮৬।
টেনু মিয়া বলেন, মামলা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন জমিলা খাতুন ও লোকজন। এতে করে আক্রোশমূলক ভাবে তার বাসার টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ২ ভরি স্বর্ণ, ৪০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান জিনিস পত্র নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি হবিগঞ্জ আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-সিআর ১০৫। এসব ঘটনাকে থেকে বাঁচতে জমিলা খাতুন তার বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করেন। যার মামলা নং-৪৩২৬। এরপর থেকে জমিলা খাতুন তাকে নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে বলে তিনি দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে টেনু মিয়া আরও বলেন, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বাউন্ডারী নির্মানের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে গত ১৭ মে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর প্রশাসককে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জুন জমিলা খাতুনকে বাউন্ডারী অপসারণে নির্দেশ দেয় শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা। তবে এতে কোন কর্ণপাত করেননি জমিলা খাতুন। যার ফলে ২৯ জুলাই রাস্তা উদ্ধার ও বাউন্ডারী ওয়াল অপসারণ করতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার সহযোগিতায় চেয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় শায়েস্তাগঞ্জ পৌর প্রশাসভা। তবে রহস্যজনক কারনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা এখনও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি।
টেনু মিয়া বলেন, জনসাধারনের চলাচলে সরকারী রাস্তায় বাউন্ডারী নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলাসহ নানা ভাবে হত্যার হুমকির শিকার হচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি সরকারী রাস্তাটি উদ্ধার ও মিথ্যা ধর্ষণ মামলা থেকে ও জীবন বাঁচতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।