হোসেনপুরের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের থাবায় বিপর্যয়ের মুখে মৎস্য ভান্ডার,
তপন চন্দ্র সরকার, স্টাফ রিপোর্টার, হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ ,
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যাপক ব্যবহার স্থানীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। নির্বিচারে এ জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৎস্যজীবী, পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প খরচে বেশি মাছ ধরার লোভে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও মৎস্য শিকারি দীর্ঘদিন ধরে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করছে। এ জালের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাঁসে বড় মাছের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রেণু ও পোনা মাছও ধরা পড়ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার গোবিন্দপুর, সিদলা, পানান, মাধখলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ এসব জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় অবৈধ জালের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলেদের মতে, চায়না দুয়ারি জাল শুধু মাছের জন্যই নয়, পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ জালের সূক্ষ্ম ফাঁসে ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ বিভিন্ন উপকারী জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। এতে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকু নাহার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, হোসেনপুরের নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষায় অবিলম্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা, অবৈধ জাল জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে হোসেনপুরের ঐতিহ্যবাহী মৎস্যভান্ডার ও জলজ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।