২৮ লাখ টাকার সরকারি রাস্তার ইট চুরির অভিযোগে মামলা আটক-৪
মোঃ আজাদ হোসেন নিপুঃ-
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি।।
জামালপুর সদর উপজেলার ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়নে প্রায় দুই কিলোমিটার সরকারি ইটের সোলিং রাস্তা থেকে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ইট চুরির অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে চার আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নের মেঘা দেওয়ানীর মোড় থেকে আয়নাদের মোড় পর্যন্ত এবং ময়নার মোড় থেকে বয়লা খালব্রিজ হয়ে গজারি আটা ভাঙুনি ঘাট পর্যন্ত সরকারি ইটের সোলিং রাস্তা থেকে ইট চুরির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৮ ফুট প্রস্থের এক কিলোমিটার করে মোট দুই কিলোমিটার সড়ক থেকে আনুমানিক ২ লাখ ৮০ হাজার পিস ইট অপসারণ করা হয়েছে। চুরি হওয়া ইটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— মান্নান (৫০), বিপুল (২২), মোমিন (১৭), দুর্লাল উদ্দিন (৫০), শতী (৬৫), বোরহান (১৬), সাইফুল ইসলাম (২৫), সজিব (২০), ফজলুল হক (৩০) ও শাওন (১৭)। তাদের সকলের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকায়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জামালপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মো. ফজলুল হক, মো. বিপুল মিয়া, মো. সাইফুল ইসলাম ও সজীব মিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য আসামিদের বিষয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।