৩৭ বছর পর চন্দ্রখালী খালের ওপর সেতু নির্মাণের শুভ উদ্বোধন
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পশ্চিম কাওন্নারা ও সাটুরিয়া বাজারের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম চন্দ্রখালী খালের ওপর নির্মিত নতুন সেতুর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) চন্দ্রখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আজিজুল ইসলাম, সাটুরিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন পিন্টু, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহমান, সাটুরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মহসিন উজ্জামান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ আমীর হামজা, সদস্য সচিব মোঃ ফরিদ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সাটুরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন। সাটুরিয়া উপজেলার সুনামধন্য ঠিকাদার সফি খান ও রত্ন খান। সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ মুনজুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রখালী খালের ওপর দীর্ঘদিন আগে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি পশ্চিম কাওন্নারা এলাকার মানুষের সাটুরিয়া বাজারসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ১৯৮৯ সালের ২৬ এপ্রিল বুধবার ভয়াবহ প্রলয়ংকারী টর্নেডোতে সাটুরিয়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চন্দ্রখালী খালের ওপর থাকা কাঠের সেতুটিও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর পশ্চিম কাওন্নারা এলাকার মানুষের সঙ্গে সাটুরিয়া বাজার ও উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য বিষয়টি ছিল অত্যন্ত দুর্ভোগের।
বর্ষা মৌসুমে চন্দ্রখালী খালের পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করত। খাল পারাপারে স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে ঝুঁকি নিতে হতো। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হতো।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চন্দ্রখালী খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন সেতুটি পশ্চিম কাওন্নারা এলাকার মানুষের সঙ্গে সাটুরিয়া বাজার ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজ করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৮৯ সালের টর্নেডোর পর থেকে তারা একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, এটি এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেতুটি চালু হলে পশ্চিম কাওন্নারা ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সাটুরিয়া বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সেতু শুধু দুই প্রান্তকে যুক্ত করে না; এটি মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় পশ্চিম কাওন্নারা ও সাটুরিয়া বাজার এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা চন্দ্রখালী খালের ওপর সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংযোগ সড়কের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
দীর্ঘ ৩৭ বছর পর চন্দ্রখালী খালের ওপর সেতু নির্মাণের শুভ উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়। নতুন এই সেতু পশ্চিম কাওন্নারা ও সাটুরিয়া বাজারের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী