মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন
চকরিয়া-পেকুয়ার নির্বাচনী মাঠ দিন দিন আরও গতিশীল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের ২ ডিসেম্বর থেকে তৃণমূল সফর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে টানা গণসংযোগ, পথসভা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে প্রত্যক্ষ মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি প্রচারণার গতি বাড়িয়েছেন, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন ধারা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন এলাকার সাধারণ ভোটাররা।
তৃণমূলে উপস্থিতি বাড়ছে, ভোটার প্রতিক্রিয়ায় নতুন বার্তাঃ প্রচারণার দেখা গেছে মাঠ পর্যায় , সালাহউদ্দিন আহমদের জনসংযোগকে ঘিরে প্রতিটি পাড়া মহল্লার বিশেষ স্থানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম। স্থানীয়দের অনেকে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘসময় অপেক্ষা করছেন তার আগমন দেখার জন্য। এ ধরনের উপস্থিতি তৃণমূলে সমর্থকগোষ্ঠীর সংগঠিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে জোরঃ কাকারা ইউনিয়নের মাজেরপাড়ি পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ যদি আমাকে সুযোগ দেন, তবে ব্রিজ-কালভাট, রাস্তা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার। তার বক্তব্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যেমন ছিল, তেমনি ছিল অরাজনৈতিক-সামাজিক ঐক্যের আহ্বানও। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছে, এই উন্নয়নভিত্তিক বক্তব্য তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করছে।
এলাকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিযোগিতাঃ চকরিয়া-পেকুয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক। বিভিন্ন দলীয় প্রার্থী মাঠে থাকার কারণে ভোটের অঙ্ক অনেক সময়ই বদলে যায় মানুষের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ, তৃণমূল কার্যক্রম এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান এই তিনটি উপাদানের ওপর নির্ভর করে।
এই প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন আহমদের ধারাবাহিক প্রচারণা অন্য প্রার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে ভোটারদের মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যদিও যেকোনো নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, আঞ্চলিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবস্থান এবং ইউনিয়নভিত্তিক ভোট প্রবাহ বড় ভূমিকা পালন করে—এই ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
ভোটার প্রত্যাশা: উন্নয়ন, সেবা ও সুষ্ঠু নেতৃত্বঃ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অবকাঠামো সংকট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং ইউনিয়নভিত্তিক সেবামূলক কার্যক্রম এ তিনটি ক্ষেত্রেই তারা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দেখতে চান। অনেকেই বলছেন প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা নয়, বরং তাদের বাস্তবসম্মত কাজের রূপরেখাই ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচনী পরিবেশ মোটের ওপর উৎসবমুখরঃ প্রচারণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশও স্পষ্ট হচ্ছে। পোস্টার, মাইকিং, সভা-সমাবেশে পুরো জনপদ সরব। তবে ভোটাররাই বলছেন, পরিবেশ যতোই প্রাণবন্ত হোক, শেষ পর্যন্ত আমজনতার আস্থা অর্জনই হবে যেকোনো প্রার্থীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬