
মোঃ দোয়েল আহম্মেদ, রাজশাহী
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে ‘আল-মক্কা মদিনা চক্ষু হাসপাতাল’ নামে একটি ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছিল। লাইসেন্সহীন এই হাসপাতালটিতে কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকলেও হাসপাতাল মালিকের ছেলে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগী দেখতেন। অবশেষে রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ হয়ে যায় প্রতারণার এই কেন্দ্র। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালটিকে সিলগালা করেন এবং হাসপাতাল মালিক হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে ফায়সাল আহমেদ-কে দণ্ড প্রদান করেন।
ইউএনও জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো অপারেশন থিয়েটার, নেই নিবন্ধন— এমনকি কোনো যোগ্য চক্ষু বিশেষজ্ঞও নেই। এসব অনিয়মের মধ্যেও ফায়সাল আহমেদ নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকায় বহু রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিক হেলাল উদ্দিনকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ভুয়া চিকিৎসক সেজে রোগী দেখার অভিযোগে ফায়সাল আহমেদকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন নাহার, পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ডা. কামরুন নাহার বলেন, “এ ধরনের ভুয়া চক্ষু হাসপাতাল রোগীদের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আমরা সবসময় এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। স্থানীয়রা জানান, উপজেলা পরিষদের এত কাছে এতদিন ধরে প্রতারণার এমন একটি কেন্দ্র চালু ছিল বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান তারা।