
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান
নারীর মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ও সম্পত্তির অধিকার দেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করানো, এবং পরিবার ও সমাজে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পরিবেশ তৈরি করা; যা মূলত আল্লাহর দেওয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাসূল (সাঃ)-এর দেখানো পথে চলে, নারীর প্রতি ন্যায়বিচার ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভব।কুরআন-সুন্নাহর আলোকে করণীয়ঃ১। ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়ন জ্ঞানার্জন।2। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞানার্জন ফরজ, তাই নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া।3।জাহেলি যুগের মতো নারীকে বোঝা মনে না করে, সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া, যেমন: কন্যা সন্তান লালন পালনকারী জান্নাত পাবে (মুসলিম)।৪। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুন্দর আচরণ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, এবং নারীদের প্রতি ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করা (সূরা নিসা)।সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাঃবিবাহ, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্যভাবে অর্জিত সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা।পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া।ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, যা আল্লাহ কুরআনে পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে উল্লেখ করেছেন (সূরা আহযাব)।পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনঃতাদের জান-মালের নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা।সওয়াব ও ইবাদতের সমান ইবাদতের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কোনো পার্থক্য নেই, উভয়েই সমান প্রতিদান পাবে—এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা (কাসাস)।সমাজে, এমনকি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নারীদের উপযুক্ত ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া।ধর্মের নামে প্রচলিত ভুল ব্যাখ্যা ও কুসংস্কার দূর করে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।নারীদেরকে অবদমনকারী প্রথা বা ধারণার বিরুদ্ধে ইসলামি নির্দেশনা প্রয়োগ করা।
এই করণীয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে অপরিহার্য।